অন্তর্বর্তী সরকার রোহিঙ্গাদের বৈধভাবে সিম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা এত দিন বৈধভাবে মোবাইল সিম ব্যবহারের সুযোগ না পেলেও তাদের অনেকের কাছেই বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের অপারেটরের সিম রয়েছে, যা নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে সরকারের।
সূত্র জানায়, চলতি মাসেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) চার মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আলোচনায় প্রস্তাব করা হয়- রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা নম্বর সিরিজ থাকবে, যা জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) দেওয়া নিবন্ধন নম্বর বা ‘প্রোগ্রেস আইডি’–এর ভিত্তিতে দেওয়া হবে। ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা এই সিম পাবেন।
প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ২৫ আগস্টের মধ্যে ১০ হাজার সিম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই খরচ বহন করবে সরকার বা ইউএনএইচসিআর। নতুন সিম চালুর পর অবৈধভাবে ব্যবহৃত সিমগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, “রোহিঙ্গাদের পরিচয় নিশ্চিত না হলে সিম দেওয়া যাবে না। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
গ্রামীণফোনের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান তানভীর মোহাম্মদ সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও রবি আজিয়াটার করপোরেট ও রেগুলেটরি প্রধান সাহেদ আলম মনে করেন, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে এ খাতে অপারেটরদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বাংলালিংকের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান তাইমুর রহমান সিম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান।
প্রযুক্তি নীতিমালা পরামর্শক আবু নাজম মো. তানভীর হোসেনের পরামর্শ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন সিম দেওয়ার আগে মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক বন্ধ করা এবং পুরোনো অবৈধ সিমগুলো জব্দ ও নথিভুক্ত করা জরুরি।

-পার্বত্য সময়