ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে গঠিত মেডিকেল বোর্ড রোববার (১৩ ডিসেম্বর) বৈঠক করেছে।

বৈঠকে হাদিকে বিদেশে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অপরিবর্তিত’ রয়েছে বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুল আহাদ বলেন, বোর্ডের সব সদস্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রোগীর কেস সামারি প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে বিদেশের কয়েকটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক অথবা সিঙ্গাপুরের কোনো হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে এখনো কোনো দেশ চূড়ান্ত হয়নি।

চিকিৎসকরা জানান, হাদিকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, কোনো বিদেশি হাসপাতাল তার কেস গ্রহণ করে কি না। দ্বিতীয়ত, রোগীকে নিরাপদে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হয় কি না। এই দুটি শর্ত পূরণ হলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাদির শারীরিক অবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরিস্থিতি আগের মতোই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হলেও নতুন কোনো অবনতি হয়নি।

সর্বশেষ সিটি স্ক্যানে তার মস্তিষ্কের অবস্থা অত্যন্ত জটিল পাওয়া গেছে। ব্রেনে ব্যাপক ইডেমা (পানি জমা) রয়েছে, যার ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের কিছু অংশে ছিটেফোঁটা রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণও দেখা গেছে। ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণেও অবস্থার কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি।

চিকিৎসকরা জানান, ব্রেইন স্টেমের ইনজুরি এখনো গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে। অপারেশন করা পাশ দিয়ে মস্তিষ্ক কিছুটা বাইরে দিকে চাপ দিচ্ছে। বর্তমানে হাদির সবচেয়ে বড় জটিলতা মস্তিষ্ক–সংক্রান্ত সমস্যাই।

ফুসফুসের অবস্থায় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি এখনো লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন এবং যন্ত্রের সহায়তায় শ্বাস–প্রশ্বাস চলছে। তবে কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসকদের হিসাবে, প্রতিদিন প্রায় চার লিটার ইউরিন আউটপুট হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে।

এছাড়া অতিরিক্ত রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা ডিসেমিনেটেড ইনট্রাভাসকুলার কোয়াগুলেশন (ডিআইসি)- এর অবস্থাও আগের মতোই রয়েছে। নতুন কোনো সংকট তৈরি হয়নি বলেও জানান চিকিৎসকরা।