বাংলার ইতিহাসচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা রাখা এই শিক্ষাবিদের বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. সুনীতি ভূষণ কানুনগো আর নেই। শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল রবিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার নিজ গ্রাম কানুনগোপাড়ায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর নিকটাত্মীয় ও বিশিষ্ট সংস্কৃতিসেবী দোলন কানুনগো।
১৯৩৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ড. সুনীতি ভূষণ কানুনগো। তার পিতা ছিলেন স্বনামধন্য ঐতিহাসিক ড. কালিকারঞ্জন কানুনগো।
ড. সুনীতি ভূষণ ১৯৬০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আধুনিক ইতিহাসে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে স্যার আশুতোষ কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৬২ সালে তিনি ইতিহাস গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন, প্রথিতযশা ঐতিহাসিক ড. আবদুল করিমের তত্ত্বাবধানে। তিনিই ছিলেন অধ্যাপক আবদুল করিমের প্রথম গবেষক ছাত্র।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এই গবেষক দীর্ঘ শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনে বাংলার ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ রেখে গেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—
“চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাস”, “পার্বত্য চট্টগ্রাম: ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতি” এবং “বাংলার ইতিহাস: প্রাচীন যুগ”।
বাংলা ও ইংল্যান্ডের ইতিহাস নিয়ে রচিত তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলোও ইতিহাসচর্চায় বিশেষ অবদান রেখেছে। তার লেখনী ইতিহাসের তথ্য ও প্রেক্ষাপটকে সাধারণ পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করে তুলেছিল— যা তাঁকে এক অনন্য গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


