কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-১৬) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫০০ এর অধিক ঘর পুড়ে গেছে। আগুনে বেশ কয়েকটি শিক্ষাকেন্দ্র ও ধর্মীয় স্থাপনাও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

সোমবার দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোর পৌনে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আশ্রয়শিবিরের ডি-ব্লকের হেড মাঝি ও রোহিঙ্গা নেতা রিয়াজ উল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত। মোহাম্মদ আনিছ নামের এক রোহিঙ্গা বাসিন্দা রাত পৌনে তিনটার দিকে গ্যাসের চুলায় পানি গরম করতে দিয়ে চুলা বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরগুলোতে।

তিনি বলেন, ক্যাম্পটিতে প্রায় ৩৪ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করেন। বাঁশ ও ত্রিপলের তৈরি ঘরগুলো ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় একটি ঘরে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২টি মসজিদ, ১০টি লার্নিং সেন্টার (শিশু শিক্ষাকেন্দ্র) এবং একটি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুন লাগার সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরাও আগুন নেভাতে সহায়তা করেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ আশ্রয়শিবিরে গাড়ি প্রবেশ করানো কঠিন হলেও দ্রুত দুটি ইউনিট পাঠিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। দেরি হলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বড় হতে পারত। তিনি জানান, শীত মৌসুমে আশ্রয়শিবিরগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এর আগেও গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর উখিয়ার মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-৪) বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে একটি এনজিও পরিচালিত হাসপাতাল পুড়ে যায়। এছাড়া ২৫ ডিসেম্বর কুতুপালং আশ্রয়শিবিরেও অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।