কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বাংলাদেশি শিশু হুজাইফা সুলতানা (৯)। রোববার (আজ) বেলা ১১টায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ও গুলি বন্ধের জোর দাবি ওঠে।
নামাজে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী এবং জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমদ আনোয়ারী। জানাজার মাঠে পাশাপাশি অবস্থান করে উভয় নেতা সীমান্তে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জানাজার মাঠে ছিল শোকের পরিবেশ। কোনো প্রতীক বা স্লোগান নয়, আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সীমান্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা।

স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় হুজাইফা। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের একমাত্র কন্যা এবং স্থানীয় একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে (নিনস) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করলেও মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি অপসারণ সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
জানাজার আগে হুজাইফার বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, সীমান্তের গোলাগুলির শব্দ শুনে মেয়ে উঠানে বের হলে হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয়। যে মাঠে সে খেলাধুলা করত, আজ সেখানেই তাকে দাফন করতে হয়েছে। এ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্ত এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যাতে আর কোনো বাংলাদেশি নাগরিক এভাবে প্রাণ না হারায়, সে বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


