মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নির্যাতন-নিপীড়নের তথ্যানুসন্ধানে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম আসাদ আহমাদ খান। মঙ্গলবার সকালে আইসিসির ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ক্যাম্পে যায়।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো হত্যা, নির্যাতন-নিপীড়নের তথ্যানুসন্ধানের জন্য কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন করিম খানের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল। সেখানকার ক্যাম্প দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে টানা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে প্রায় ৪০জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে দলটি। এরপর তারা ক্যাম্প-৪ পরিদর্শন করেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের তথ্যানুসন্ধানের জন্য আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে এসেছেন নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের দল।
প্রথম বৈঠক শেষে লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা আলী হোসেন বাসসকে বলেন, আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ক্যাম্প ইনচার্জ কর্তৃক নির্মিত একটি কার্যালয়ে তিনিসহ ৪০ জন রোহিঙ্গাকে ডাকা হয়। যারা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি কথা বলেন কয়েকজনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলিতে স্বজন হারানোর স্মৃতি, ঘরবাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং রোহিঙ্গা মেয়েদের অপহরণের পর ধর্ষণ ও ধনসম্পদ লুটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের সাথে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত সময়ে নিজ জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান বলেও জানান রোহিঙ্গারা।
আরআরআরসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শন শেষে বিকেল সাড়ে চার টায় তাঁর কার্যালয়ে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আশ্রয়শিবিরের পরিবেশ ও পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সেবা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মিজানুর রহমান বলেন, আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গারা আইসিসির প্রধান কৌঁসুলিকে জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ে তারা নিজ জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান। একই সাথে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। এর জবাবে করিম খান বলেন, বিচার একটি লম্বা প্রক্রিয়া। তারা আইনি লড়াইয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

-পার্বত্য সময়