কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বনভূমির ওপর গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ দোকান ও বাজার। এসব বাজারকে ঘিরে প্রতিদিন বাড়ছে বিশৃঙ্খলা, অবৈধ বাণিজ্য এবং গোপন তৎপরতার ঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এসব বাজার পরিচালনা করছে। ক্যাম্প প্রশাসন নিয়মিত অভিযানের দাবি করলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।
জানা গেছে, অবৈধ এসব বাজার পরিচালনায় জড়িত স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতারা। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা প্রকাশ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন, আর তাদের পেছনে রয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নামকরা নেতাদের অদৃশ্য ছায়া।
বন বিভাগের শত শত একর জমি দখল করে এসব বাজার চালানো হচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলম, শ্রমিক লীগ নেতা আলমগীর, যুবলীগ নেতা সরওয়ার ও ছাত্রলীগের নিশান–মিজান প্রভাব খাটিয়ে এসব বাজার নিজেদের নামে নামকরণ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব বাজার থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ ঢাকায় পাঠানো হয়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহীম আজাদের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে রাজধানীতে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল–মিটিং আয়োজন ও দেশবিরোধী তৎপরতায়।
একই সঙ্গে এই টাকায় পরিচালিত হচ্ছে স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘রাসেল বাহিনী’ ও ‘মিজান বাহিনী’, যারা ক্যাম্প এলাকায় চাঁদাবাজি ও ভীতি ছড়ানোর কাজ করছে।
অন্যদিকে বনবিভাগ ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করে ক্যাম্প প্রশাসনকে দিয়েছে। উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, বনভূমি দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম সময়ের কণ্ঠস্বরের খবরে বলা হয়েছে- এ বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ক্যাম্পের ভেতরে সব ধরনের বাজার অবৈধ এবং কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এসব বাজার উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোহিঙ্গা আগমনের আগে বনভূমি লিজ নিয়ে চারা রোপণ, প্লট তৈরি ও বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন স্থানীয়রা। এখন সেই জমিগুলো অবৈধ দোকানপাটে ভরে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ক্যাম্প প্রশাসনের গাফিলতি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দাপটে বনভূমি দখল হয়ে গেছে।
-পার্বত্য সময়


