কোনো আইনি সুরক্ষা ছাড়াই শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে জোরপূর্বক পাঠাচ্ছে ভারত। এসময় অনেককে নির্বিচারে আটক, নির্যাতন এবং লুটপাটও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, চলতি বছরের মে মাস থেকে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে রোহিঙ্গা ও বাংলাভাষী মুসলমানদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে অভিযান শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে অন্তত ১৯২ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইউএনএইচসিআরে নিবন্ধিত থাকার পরও অনেককে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ৪০ জনকে নৌকায় তুলে মিয়ানমারের উপকূলে ফেলে দেওয়া হয়।
এইচআরডব্লিউ–এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলাইন পিয়ারসন বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।” তিনি আরও বলেন, বিজেপির এই পদক্ষেপ মুসলিমবিরোধী নীতির প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরে সম্প্রতি ভারত থেকে পালিয়ে আসা নয়জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং টাকা, মোবাইল ও ইউএনএইচসিআর কার্ড কেড়ে নিয়েছে। অন্য তিনজন পুলিশি হুমকির মুখে কাশ্মির, অন্ধ্রপ্রদেশ ও দিল্লি থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।
এক রোহিঙ্গা নারী জানান, আসামের গোয়ালপাড়া জেল থেকে বন্দুকের মুখে তাকে ও তার পরিবারকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকে এত জোরে চড় মারা হয় যে, এখনও কান দিয়ে শুনতে পান না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে দিল্লি থেকে আটক ৪০ জন রোহিঙ্গাকে আন্দামান–নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পাঠানো হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে মিয়ানমারের উপকূলের কাছে নিয়ে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে সমুদ্রে নামতে বাধ্য করা হয়।
বর্তমানে ভারতে আনুমানিক ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যার অন্তত ২০ হাজার ইউএনএইচসিআরে নিবন্ধিত। তবে ভারত ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষর না করায় তাদের আইনি সুরক্ষা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শুনানি করবে।
-পার্বত্য সময়


