বাংলাদেশের মংলা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা এবং সেখানে একটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণে ভারত দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টার মধ্যেই এই আগ্রহ দেখা দিয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য মংলার উপর ভারতের দৃষ্টিপাত তার বৃহত্তর কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 
ইরানের চাবাহার বন্দর এবং মায়ানমারের সিটওয়ে বন্দরে ইতিমধ্যেই ভারতের অপারেশনাল অধিকার হয়েছে। মংলা বন্দর যুক্ত হলে ভারত মহাসাগরে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
সূত্রের মতে, সফল হলে, মংলা বন্দরের ভারতের ব্যবস্থাপনা ভারত মহাসাগরের পশ্চিম এবং পূর্ব উভয় ফ্রন্টে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবস্থানগুলিতে তার প্রভাব সুরক্ষিত করবে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বলয়ে একটি প্রভাবশালী পক্ষ হিসাবে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
ইকোনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুসারে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাদের আসন্ন বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মংলা বন্দরের কার্যক্রম বিষয়ে ধারণা অর্জনের জন্য ইতোমধ্যেই ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL)  মংলা বন্দর পরিদর্শন করেছে, এবং কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের আলোচনা চলছে। সফল হলে, চাবাহার এবং সিত্তওয়ের পর মংলা ভারতের তৃতীয় আন্তর্জাতিক বন্দর অপারেশন হবে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ লাভজনক কি না তা বিবেচনা করে প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করবে। বর্তমানে, বন্দরটি কন্টেইনার এবং বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ পরিচালনা করে এবং ট্রান্সশিপমেন্ট থেকে বর্ধিত কার্গো ভলিউম পরিচালনার জন্য আরও দুটি জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২১ জুন দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সূত্রগুলি ইঙ্গিত করেছে যে এজেন্ডার মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে আন্তঃসীমান্ত সংযোগ উদ্যোগ, তিস্তা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগ, মংলা বন্দরের ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্য।

-পার্বত্য সময়