বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের বাড়তি যোগাযোগ ও সামরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নয়াদিল্লি দ্রুত কৌশলগত অবস্থান পুনর্গঠন করছে এবং বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

ভারতের শীর্ষ বার্তা সংস্থা ডিএনএ জানিয়েছে, বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের বামুনি, কিষাণগঞ্জ ও চোপড়া এলাকায় ভারত সম্প্রতি তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এর মূল লক্ষ্য- উত্তর-পূর্ব ভারতের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ সুরক্ষা এবং বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে উদীয়মান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে সামরিক প্রান্তিকতা বজায় রাখা।

ঢাকার সঙ্গে পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ- বিশেষত পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার ঢাকা সফর- ভারতকে আরও সতর্ক করেছে। সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

এছাড়া কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সামরিক কর্মকর্তা ভারতের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জমূলক অবস্থান প্রকাশ করায় নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এ এল এম ফজলুর রহমান প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন- ভারত যদি পাকিস্তান আক্রমণ করে, তাহলে বাংলাদেশকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য দখল করা উচিত এবং চীনের সঙ্গে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা বিবেচনায় আনা যেতে পারে।

ইউনূসের বক্তব্যে দিল্লির বিরক্তি

ডিএনএ মন্তব্য করেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্য ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সমুদ্র প্রবেশাধিকার বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করে- এটি চীনের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এ ধরনের অবস্থান নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে শুধু অর্থনৈতিক বিবৃতি নয়; বরং বাংলাদেশের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারত ভূ-রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিলিগুড়ি করিডর

শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার Achilles' heel—২০-২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সরু ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন হলে সেভেন সিস্টার্স অঞ্চল মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এজন্য ভারত ইতোমধ্যে বিকল্প রেলপথ পরিকল্পনাও শুরু করেছে- বিহারের জোগবানি থেকে নেপাল হয়ে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত সংযোগ জোরদার করা হবে।

ঢাকা- ইসলামাবাদ- বেইজিং ধারা মোকাবিলা

প্রতিবেদন বলছে- বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা, তার সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের জন্য সরাসরি কৌশলগত উদ্বেগের কারণ। নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলো তাই শুধু সীমান্ত সুরক্ষার জন্য নয়; বরং পরিষ্কারভাবে ঢাকা- ইসলামাবাদ- বেইজিং অক্ষ মোকাবিলায় দিল্লির আগাম প্রস্তুতি।

বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে চলমান সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক তৎপরতা- দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।