মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ টেকনাফের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯)-এর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। গুলির আঘাতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়ে তার স্ট্রোক হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সংকটাপন্ন অবস্থার কারণে আপাতত দেশেই তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক শেষে এই তথ্য জানানো হয়। বোর্ড জানায়, গুলির আঘাতে আফনানের মস্তিষ্কের ডান পাশে চাপ বেড়েছে, যা তার অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যে চিকিৎসা চলমান রয়েছে, তার সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের ভেতরের চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। শিশুটিকে এখনো মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে, অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রয়েছে।

মেডিকেল বোর্ড জানায়, গ্লাসগো কোমা স্কেল অনুযায়ী আফনানের জ্ঞানের মাত্রা ১৫-এর মধ্যে ৭, যা গুরুতর অবস্থার নির্দেশক। চিকিৎসকেরা জানান, এই পর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঝুঁকির মাত্রা এখনো কাটেনি।

চিকিৎসকদের মতে, গুলির আঘাতে মস্তিষ্কের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং তার ফলে স্ট্রোক হওয়ায় আফনানের চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। এ কারণে অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

হুজাইফার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ডা. মনিরুল ইসলাম, ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু, ডা. সুদীপ্ত কুমার মুখার্জি, ডা. সিরাজুল ইসলাম এবং ডা. ফরহাদ হোসেন চৌধুরী।

উল্লেখ্য, টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে আফনান প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের জেরে বাংলাদেশের ভেতরে গুলি এসে পড়ায় এ ঘটনা নতুন করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার প্রশ্ন তুলেছে।