বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১০ লাখ ইউরো সহায়তা দিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, ইতালির এই আর্থিক সহায়তাকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয় এবং দেশটির অভিবাসন নীতিবিষয়ক মহাপরিচালকের মাধ্যমে দেওয়া এই অর্থায়ন ইউএনএইচসিআর ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোকে কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।
এই সহায়তার আওতায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি রোগী স্থানান্তর, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে অর্থায়নের ঘাটতির মধ্যে এসব জীবনরক্ষাকারী সেবা চালু রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।
সংস্থাটি আরও জানায়, এই অনুদানটি গ্লোবাল রিফিউজি ফোরাম (জিআরএফ)-এ দেওয়া ইতালির প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন। ওই ফোরামে ইতালি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের রিপ্রেজেনটেটিভ ইভো ফ্রেইসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ও মর্যাদা রক্ষায় ইতালির উদার সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “অর্থায়নের ঘাটতির কারণে জীবনরক্ষাকারী সেবাগুলো যে চাপে রয়েছে, এই অবদান তা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বৈশ্বিক মানবিক সংকট মোকাবিলায় ইতালি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, “জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবায় এই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পেরে আমরা গর্বিত।”
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট বর্তমানে নবম বছরে পা দিয়েছে। কক্সবাজারের শিবিরগুলো ও ভাসানচরে অবস্থানরত প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা প্রায় পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত না থাকলে স্বাস্থ্যসেবায় অর্জিত অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়বে, যার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে রোহিঙ্গাদের জীবন, মর্যাদা ও সামগ্রিক কল্যাণের ওপর।


