বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘মার্চ ফর রোহিঙ্গা’। সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পিপলস কোয়ালিশন ফর রোহিঙ্গা রাইটস-এর ব্যানারে শাহবাগ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত এ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জুলাই বিপ্লবের অ্যাক্টিভিস্ট, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা। বিকাল ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে পদযাত্রা শহীদ মিনারে সমাবেশে মিলিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দেন— “রোহিঙ্গা জাতির ওয়াতান, নাফ থেকে কালাদান”, “ভোরের আলো মুক্তির গান, স্বাধীন হবে আরাকান”, এবং “ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, আরাকান উইল বি ফ্রি”।
সমাবেশে বক্তৃতা দেন রোহিঙ্গা প্রতিনিধি আহনাফ আলম, অ্যাক্টিভিস্ট ইফতেখার জামিল, রাফিদ এম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ ইশরাক হোসাইন, আজিজ ফাহিম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল ওহায়েদ, সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ পিপলস কোয়ালিশন ফর রোহিঙ্গা রাইটসের সংগঠক জিহাদী ইহসান এবং মুখপাত্র শাহরিয়ার ফাহাদসহ অনেকে।
রোহিঙ্গা তরুণ আহনাফ আলম বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষ শতাব্দীব্যাপী আরাকানে বসবাস করলেও আজ আমাদের মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশি সমাজে কিছু ভুল ধারণা আছে, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ আমাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাবে।”
বক্তৃতায় জিহাদী ইহসান উল্লেখ করেন, “সতেরো শতক থেকে রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার। ফিলিস্তিনের মতোই রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সংহতি প্রয়োজন। পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষদের আমরা আহ্বান জানাই, যেন তারা রোহিঙ্গাদের স্বাধীনতার আন্দোলনে একসাথে দাঁড়ায়।”
বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান বলেন, “রোহিঙ্গারা আমাদের ভাই। কয়েক দশক ধরে তারা গণহত্যার শিকার হলেও বিশ্বশক্তি নীরব দর্শক হয়ে আছে। এই নীরবতা মানবতার জন্য লজ্জাজনক। রোহিঙ্গাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব।”
সমাবেশ থেকে ‘মার্চ ফর রোহিঙ্গা’-এর মুখপাত্র শাহরিয়ার ফাহাদ রোহিঙ্গাদের অধিকার ও আরাকানের স্বাধীনতার দাবিতে আট দফা প্রস্তাব ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গা গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার, রোহিঙ্গাদের ‘রাইট টু রিটার্ন’ বাস্তবায়ন, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমে সুরক্ষা, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, বাংলাদেশে ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং বৈশ্বিক সংহতির মাধ্যমে আরাকানের মুক্তি আন্দোলনে সহযোগিতা।
বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে না দিলে এই সংকট কেবল মানবিক বিপর্যয় নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে থাকবে।

-পার্বত্য সময়