কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-৫ ব্লকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বলেন, “ভোরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩০টি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে দ্রুত তা আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায় এবং খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টার দিকে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আগুনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৪৫টি শেল্টার পুড়ে যায় এবং সোনা বাণু নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, যা ক্যাম্পবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০০টি শেল্টার পুড়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা জোরদার এবং সচেতনতা কার্যক্রম আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


