কক্সবাজারে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে পুড়ছে ৫৪৪ টি বসত ঘর, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লার্নিং সেন্টার, শিশুবান্ধব কেন্দ্র, নারী বান্ধব কেন্দ্র, মসজিদ, এতিমখানা, টয়লেট, বিভিন্ন এনজিও সংস্থার অফিস, দোকান সহ নানা স্থাপনা। আগুনে ক্ষতি হয়েছে ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতরা হল, উখিয়া কুতুপালং  লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ওয়ান ওয়েস্টের সি-৬ ব্লকের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে বোরহান উদ্দিন রাসেল (৫) এবং একই ক্যাম্পের সি-৬ ব্লকের বাসিন্দা আবুল খায়ের (৬০)।
কক্সবাজার, রামু, টেকনাফ ও উখিয়ার ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট এবং পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা তিন ঘণ্টার অধিক চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটে লাগা আগুন বিকাল পৌনে ৩ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানান, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-পরিচালক মো. তানহারুল ইসলাম।
তিনি সন্ধ্যায় প্রতিবেদককে জানান, “আগুনের খবর পেয়ে জেলা বিভিন্ন উপজেলা থেকে আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বিকালে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ জন। মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন বৃদ্ধ রয়েছে।”
মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং লম্বাশিয়া ওয়ান ওয়েস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।
রান্নার চোলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার পরেও আগুনের কারণ জানতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অধিকতর তদন্ত কাজ চালাচ্ছে বলে জানান, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারে উপ-পরিচালক তানহারুল ইসলাম।
রোহিঙ্গা নেতা ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের জানান, দুপুরে উখিয়ার লম্বাশিয়া ওয়ান-ওয়েস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকের একটি বসত ঘরে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। এতে আগুন ক্যাম্পটির আশপাশের বসতঘরসহ অন্যান্য স্থাপনায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রশাসন, স্থানীয় সেচ্ছাসেবক ও উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। পরে সেখানে কক্সবাজার, রামু ও টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের আরও ৫ টি ইউনিট যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব, উখিয়া পুলিশ এবং এপিবিএন পুলিশের সদস্যরা। প্রায় ৩ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে চেষ্টার পর বিকাল পৌনে ৩ টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।”
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, “অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”
তিনি বলেন, “আগুনে পুড়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫৪৪টি বসত ঘরসহ নানা স্থাপনা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার। এ সময় ১০ লাখ টাকার পরিমাণ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। রান্নার চোলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।”
তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুনরায় যাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি।”
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ গুলো ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করা হয়েছে।”
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়ে জাতিসংঘের সেবা দানকারী সংস্থা গুলোর সাথে বিকেলে একটি কো-অর্ডিনেশন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিটিং এর সিদ্ধান্ত মতে বুধবার থেকে তাদেরকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের যেন খোলা আকাশের নিচে থাকতে না হয় সেজন্যে দ্রুত সেল্টার গুলো নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুনরায় যেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে আরো সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

  • -পার্বত্য সময়