বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই বীরের শৈশব কেটেছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সাবেক রামনগর গ্রামে। তার স্মরণে দিবসটি উপলক্ষে নরসিংদীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করবে।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার ১০৯ নম্বর আগা সাদেক রোডের ‘মোবারক লজ’-এ জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী আবদুস সামাদ এবং মা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। তাদের আদি নিবাস নরসিংদীর রায়পুরার রামনগর গ্রামে।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি সারগোদার পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন মতিউর রহমান। ১৯৬৩ সালে রিসালপুর পিএএফ কলেজ থেকে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। পরে করাচির মৌরিপুর, বর্তমান মাসরুর, বিমানঘাঁটির ২ নম্বর স্কোয়াড্রনে জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মতিউর রহমান দেশকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে বাঙালি যুবকদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। পরে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে উড়াল দেন মতিউর রহমান। ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে শহীদ হন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করে। তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে রামনগর গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ‘মতিউর নগর’ রাখা হয়েছে।

শহীদ হওয়ার পর পাকিস্তানে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালের ২৪ জুন তার দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরদিন ২৫ জুন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের স্মৃতি আজও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।