সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান সমস্যাটি এখন আর কেবল আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, এই অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিকাশ হচ্ছে এবং এখানে একাধিক দেশ সংশ্লিষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাঙ্গামাটিতে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক-নির্বাচনী পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, একাধিক প্রতিবেশী দেশের সংশ্লিষ্টতার কারণে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে বিকশিত হচ্ছে, তাতে পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং অখণ্ডতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই পাহাড়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলমান সমস্যাকে জাতীয় সংহতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এর সমাধান সংযুক্ত করা অপরিহার্য।
ড. ভট্টাচার্য জোর দেন- পার্বত্য চট্টগ্রামের এমন পরিস্থিতিতে একটি জাতীয় সমাধান খুঁজে বের করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই সমাধানের মূল ভিত্তি হবে জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে এই অঞ্চলের সকল মানুষের অংশগ্রহণ, তাদের অধিকারের স্বীকৃতি, ইতিহাসের প্রতি সম্মান এবং স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের প্রতি মনোযোগী হওয়া।
তিনি জানান, পাহাড়ের সমস্যা নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট পথরেখা সৃষ্টি করা আবশ্যক, যার মধ্যে ভূমি সংস্কার, স্থানীয় সরকার সংস্কার, ধর্মীয় জাতিসত্তাগুলোর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে স্বার্থরক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, কাপ্তাই হ্রদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, স্থানীয়দের জন্য শিল্প স্থাপন এবং স্থানীয়দের নিয়ে ইকো-সিস্টেম পর্যটন সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট সকল সম্প্রদায়ের অংশীদারিত্ব নিশ্চিতমূলক সমাজব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই পথরেখায় সুস্পষ্টভাবে থাকতে হবে।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন এক দোলাচলের মধ্যে আছে, যেখানে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে চাওয়া পরিবর্তনগুলোকে টেকসই করতে একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়া চলছে। যদিও তিনি তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে অনিবার্য পরিণতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন, তবে একই সাথে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে ভীতিমুক্ত ভোটার, প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং শক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতো দৃশ্যমান চিহ্নগুলো এখনও দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আশা করেন- সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোও এতে বড় খেলোয়াড়ের ভূমিকায় থাকবে।


