মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির চাপে মোরং সম্প্রদায়ের মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের ডন নাইয়ো, আপার ইন চং, লোয়ার ইন চং এবং ব্যান তাইক এলাকায় বসবাসরত মোরং সম্প্রদায়কে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে থিত তনে নারখুসোনে ও বং গ্রামে যেতে নির্দেশ দিয়েছে আরাকান আর্মি। বিদ্রোহী সংগঠনটির অভিযোগ- সেখানে বসবাসরত মোরংরা রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরসাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।
এদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, এলাকাটি ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আরাকান আর্মির সদস্যরা মোরং জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি ভাঙচুর, নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা এবং যুবকদের জোরপূর্বক দলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন অনেকেই।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের ইয়াংনি মোরং পাড়া, পংক্রেত মোরং পাড়া, মোমপ্র মোরং পাড়া, মেরুয়া মোরং পাড়া, রেওয়া মোরং পাড়া এবং রাজা মোরং পাড়ায় ইতোমধ্যে নতুন করে কিছু মোরং পরিবার অবস্থান নিয়েছে।
রাখাইন অঞ্চলে সম্প্রতি আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরসার মধ্যে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাব সরাসরি মোরং সম্প্রদায়ের ওপর পড়ছে; জোরপূর্বক স্থানান্তর কিংবা সশস্ত্র দলে যোগদানে বাধ্য হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, মংডুর সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় তিন থেকে চার হাজার মোরং বাস করে। নির্যাতন অব্যাহত থাকলে তাদের বৃহৎ অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে সতর্কতা বাড়ানো হলেও নতুন অনুপ্রবেশের ঝুঁকি থাকছে- বলছে সংশ্লিষ্টরা।


