দীর্ঘ ১১৫ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত ৩টা ১২ মিনিটে জাহাজটি প্রণালিটি অতিক্রম করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
ইরান-সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জাহাজটি দীর্ঘদিন পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছিল। সোমবার ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয় জাহাজটি। এর মধ্য দিয়ে জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে জানান, বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১২ মিনিটে তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। আমরা সবাই খুশি। যেন দীর্ঘদিন পর মুক্তির স্বাদ পেলাম।’
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তখন জাহাজটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭ নটিক্যাল মাইল।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, জাহাজটি ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা অতিক্রমের সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিএসসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত না হলেও ইরানের অনুমতি নিয়ে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল করছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নিরাপদে প্রণালিটি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হলে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে।
জাহাজটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অন্তত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। অবশেষে ১১৫ দিন পর সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।


