বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে মিয়ানমার ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ BIMSTEC শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।
বৈঠকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ থান শোয়ে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে সম্মতি জানান। এ তথ্য প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পোস্টেও নিশ্চিত করা হয়। এটি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, কারণ প্রথমবারের মতো মিয়ানমার একটি নির্দিষ্ট তালিকার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে।
মিয়ানমার জানিয়েছে, বাকি ৫ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাই দ্রুত শেষ করা হবে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাংলাদেশের কূটনীতির একটি বড় সাফল্য। দীর্ঘ আট বছর ধরে এই রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় এক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু মিয়ানমারের এই সিদ্ধান্ত সংকটের সমাধানপ্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
মিয়ানমারকে কীভাবে রাজি করানো সম্ভব হলো?
বাংলাদেশের উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার তার ফেসবুক পোস্টে জানান, ব্যাংককে অনুষ্ঠিত BIMSTEC সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। কারণ, মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা তাদের ভাষণে রোহিঙ্গাদের 'অবৈধ বাঙালি' বলে উল্লেখ করেছিলেন, যা বাংলাদেশ মেনে নেয়নি।
বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান এবং চাপের ফলস্বরূপ, মিয়ানমার এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়। পরে সেই বৈঠকে, সমঝোতার ভিত্তিতে ঐতিহাসিক অগ্রগতি লাভ হয়।
এটা বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক জয়। বিশেষভাবে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ড. ইউনুস ও ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। তাদের কার্যকর কূটনৈতিক কৌশলের কারণে, এই পদক্ষেপ একটি দৃঢ় ও বাস্তব উদাহরণ হয়ে থাকবে যা পরবর্তী সময়ে বহুমুখী কূটনৈতিক আলোচনার জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।
এটি বাংলাদেশের কূটনীতির বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই চুক্তি কেবল মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথ উন্মুক্ত করেনি, বরং রোহিঙ্গা সংকটের একটি সম্ভাব্য সমাধানও তুলে ধরেছে। বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান এবং কূটনৈতিক চাপে, মিয়ানমার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও রোহিঙ্গার ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং বাংলাদেশের কূটনৈতিক সফলতার এক বিশেষ দৃষ্টান্ত, যা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের দৃঢ় সংকল্প ও কৌশলগত দক্ষতার পরিচয় করিয়ে দিবে।
-পার্বত্য সময়


