মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলার বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এলাকা ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) গভীর রাতে মিয়ানমার অভ্যন্তরে সংঘটিত এসব হামলার শব্দে আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় জান্তা বাহিনী বিমান থেকে বোমাবর্ষণ শুরু করে। এ সময় কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তজুড়ে পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম বিস্ফোরণের পর ৫ থেকে ১০ মিনিটের ব্যবধানে আরও অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সীমান্তের এপারের বসতঘর ও স্থাপনা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অনেক মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বের হয়ে আসেন।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তমব্রু, পাথরকাটা ও চাকমাপাড়া সীমান্তের পাশাপাশি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের রহমতেরবিল, ধামনখালী, নলবনিয়া ও আঞ্জুমানপাড়া এবং টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবুনিয়া, খারাংখালী, লম্বাবিল ও তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ঘুমধুম সীমান্তের বাসিন্দা আজিজুল হক রানা বলেন, রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের মতো অনুভূতি হয়। পরে মিয়ানমারের আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনতে পাই।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নের একাধিক সীমান্ত গ্রাম থেকেও একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বিজিবির কক্সবাজার-৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত চলছে। শনিবার রাতে মিয়ানমার অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে বিজিবির কাছে তথ্য রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিওপিগুলোকে টহল ও নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মিয়ানমারে রোববার জান্তা সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর এটিই দেশটিতে প্রথম জাতীয় নির্বাচন।

কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এ নির্বাচনে ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় ভোট হচ্ছে। চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে রাখাইন রাজ্যসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ভোটের বাইরে রয়েছে। তিন ধাপের নির্বাচনের বাকি দুই দফার ভোট আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সহিংসতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ৬৫টি নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণ পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।