কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মিয়ানমারের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছে। ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার (৪ জানুয়ারি) উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প–১ (ডব্লিউ) এলাকায় রোহিঙ্গারা তাদের দেশের স্বাধীনতা দিবস পালন করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চালানো নিপীড়ন, সহিংসতা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে রোহিঙ্গারা বর্তমানে বাংলাদেশে অমানবিক ও অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে। এই সংকটকালে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় তারা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার সভাপতি ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নয়, বরং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের উদ্দেশ্য আধিপত্য বিস্তার নয়, বরং সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে একটি সংবেদনশীল সময় অতিক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় কোনো রোহিঙ্গা যেন ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে হোস্ট কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের কাঁটাতারের ভেতর অবস্থান করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা নেতারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে। তাই দ্রুত নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

অনুষ্ঠানে ইউসিআরের সভাপতি ছৈয়দ উল্লাহর নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী অংশ নেন। এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি মাস্টার জাহাঙ্গীর, মাস্টার রফিক প্রকাশ কিংমং, মাস্টার শোয়াইব, নারী নেত্রী সাজেদা বেগমসহ বিভিন্ন ক্যাম্পের প্রতিনিধি ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মিয়ানমারের একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মানবিক বিবেচনায় সরকারি আদেশে ৯ হাজার ৭০০ জনের বেশি বন্দিকে বিশেষ ক্ষমা দেওয়া হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৯ হাজার ৬৫২ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ১১৪ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন।

রোহিঙ্গা নেতারা আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক চাপ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী, ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।