রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত মার্চে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার আশ্বাস দিলেও প্রায় পাঁচ মাস পরেও কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। বরং নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও আরাকান আর্মির দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বারবার যোগাযোগ করা হলেও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা মিলছে না। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সেবাদান সংক্রান্ত ব্যয়ভার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই চাপ মোকাবিলায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যদিও এই আহ্বানেও মেলেনি প্রত্যাশিত সাড়া।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু প্রয়োজনীয় সমর্থন পাচ্ছি না।”
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, তবে এখনো কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
গত ২৪ মার্চ জাতিসংঘ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের একটি সহায়তা তহবিল চেয়ে বিবৃতি দেয়। এই তহবিল ২০২৫-২৬ সাল পর্যন্ত চলমান সংকট মোকাবিলায় ব্যয় করার পরিকল্পনা থাকলেও, এখন পর্যন্ত এর জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর এবং যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় কোনো নিরাপদ দেশে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিকল্প প্রস্তাব দেয়। এমন ধারণা নিয়ে কিছু কূটনৈতিক আলোচনাও হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের কোনো দৃষ্টান্ত গড়ে ওঠেনি।
বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। সরকারের আশ্রয় প্রদান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র- আমাদের সময়