পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, মিয়ানমারের চলমান সংকট দ্রুত সমাধানের কোনো বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা নেই এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে হবে। তিনি বলেন, এই সংকটের প্রেক্ষাপটে অনেক কিছু পরিবর্তিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। সেই প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে চলছে, তবে এ মুহূর্তে এর বেশি বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সংকটের শুরুতেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছিলেন যে মিয়ানমারের সমস্যা দুই-চার মাস বা এক-দুই বছরের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, আমি তখন একজন প্রাইভেট পারসন হিসেবে বলেছিলাম, যেভাবে সমস্যাটা চিন্তা করা হচ্ছে, তাতে দ্রুত সমাধান সম্ভব না। সমস্যাটার প্রকৃতি এমন যে এতে দীর্ঘ সময় লাগবে- এটা তখনও আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে বোঝা গিয়েছিল।
সীমান্তে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, আরাকান আর্মি মিয়ানমারের একটি বাস্তব শক্তি হলেও তারা দেশটির স্বীকৃত সরকার নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা কোনো নন-স্টেট অ্যাক্টরের সঙ্গে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করতে পারি না এবং করবও না। আমাদের তো মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো রয়েছে, আমরা সম্পর্ক ত্যাগ করিনি।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সরকারের একটি বৈধ এন্টিটি রয়েছে, যদিও দেশের ভেতরে বাস্তব ক্ষমতার সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে তার অবস্থান নির্ধারণ করতে হচ্ছে। এ কারণেই সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি যোগাযোগ ও সমাধান প্রক্রিয়া সহজ নয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সীমান্তে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যে জটিলতা তৈরি হয়, সেটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। এটি একদিনে শুরু হয়নি এবং একদিনে শেষও হয়ে যাবে না। এই প্রেক্ষাপটে ধৈর্য, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


