বাংলাদেশে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের সিংহভাগ দেশেই উৎপাদিত হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ কারণে এ দুই জ্বালানি তেল নিয়ে ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পেট্রোল মূলত দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন করা হয়। কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত পেট্রোলের পরিমাণ দেশের চাহিদার চেয়েও বেশি। এ কারণে বিপিসি কয়েকবার পেট্রোল রপ্তানির উদ্যোগ নিলেও মানসম্মত না হওয়ায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে এই পেট্রোলের সঙ্গে আমদানি করা অকটেন বুস্টার মিশিয়ে অকটেন তৈরি করা হয়।

দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য- যেমন তারপিন, রঙের কাঁচামাল ইত্যাদি উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন। অন্যদিকে দেশে পেট্রোল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় আট থেকে সাড়ে আট লাখ টন।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে জ্বালানির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি তেল সংগ্রহ করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হলেও অনেকে এটিকে ভুলভাবে বুঝে তেল মজুত শুরু করেছেন।

তিনি জানান, আগামীকাল সোমবার আরও দুটি তেলের জাহাজ দেশে পৌঁছাবে, তাই তেল সরবরাহ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে আপাতত কোনো সংকট নেই। যে ১৪টি কার্গো আসার কথা ছিল, তার বেশির ভাগই ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে এবং কয়েকটি পথে রয়েছে। এপ্রিল মাসে আসার কথা থাকা ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টির আগমন নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দুটি কার্গো মে মাসে পাঠাবে বলে সরবরাহকারীরা জানিয়েছে। সংকট এড়াতে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও তেল আমদানির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়েও উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, চীনা জাহাজ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকায় এ পথেও আমদানিতে কোনো সমস্যা হবে না।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এর একটি অংশ ইতোমধ্যে দেশে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া ব্রুনাই থেকে আরও এক লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।