পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে নিয়োগ, শিক্ষাবৃত্তি ও উন্নয়ন বরাদ্দে জনসংখ্যা অনুপাতে সমবন্টনের দাবিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, রাঙামাটি জেলা শাখা।

সোমবার (২৩ জুন) রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. হাবিব উল্লাহ মারুফের হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেন সংগঠনের নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান, সহসভাপতি এসএমজি আজম, সাধারণ সম্পাদক ডা. মুহাম্মাদ ইব্রাহিম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার এবং ছাত্র পরিষদের নেতা তাজুল ইসলাম।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদসহ পার্বত্য দপ্তরগুলোর নিয়োগ ও শিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিভিন্ন নিয়োগ ও বৃত্তি বিতরণে বাঙালিদের মাত্র ৩০ শতাংশ এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য ৭০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে—যা বাস্তব জনসংখ্যার অনুপাতে সমন্বিত নয়। অথচ জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪ শতাংশই বাঙালি সম্প্রদায়ের।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোটানীতির কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও জেলা পরিষদ একতরফাভাবে এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এর ফলে রাঙামাটির বাঙালি জনগোষ্ঠী ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ বৈষম্য রয়েছে। চাকমা সম্প্রদায়ের আধিপত্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেমন খিয়াং, লুসাই, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমির মতো গোষ্ঠীরা সমান সুযোগ পাচ্ছে না।

সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে দাবি জানানো হয়, পার্বত্য জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নিয়োগ ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদানে বিদ্যমান বৈষম্যনীতি পরিহার করে জনগণের প্রকৃত সংখ্যা ও প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সমবণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া শান্তি, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাঙালি ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সুবিচার করতে হবে।

স্মারকলিপির মাধ্যমে তারা তিন পার্বত্য জেলার সকল জেলা পরিষদে এই ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।