রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় একে একে ব্যালট পেপারে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। সংসদ ভবনের কক্ষের মাঝামাঝি স্থানে একটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে।
ভোট দেন সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নিপুণ রায় চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমানউল্লাহ আমানসহ অনেকে। ভোট দেওয়ার পর সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সঙ্গে হাত মেলান।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্যরাও ভোট দিচ্ছেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও আখতার হোসেনসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা পর্যায়ক্রমে ভোট দেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় জাতীয় সংসদে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
নির্বাচনী কর্তা হিসেবে ভোটগ্রহণ পরিচালনা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্রার্থী এবং তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকদের নাম ঘোষণা করেন। পরে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেন।
সিইসি জানান, ব্যালট পেপারে প্রার্থীর পছন্দের স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার জমা দিতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পর ভোট গণনা শুরু হবে।
যেভাবে হচ্ছে ভোটগ্রহণ
সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদ সদস্যদের নিয়ে আলাদা বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা করছেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দিচ্ছেন। প্রথমে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করতে হচ্ছে। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি নিজেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী জোটের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।


