স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে কাজ শুরু করেছে র‍্যাবের সব ইউনিট। জনবল, ক্ষমতা,  সম্পদসহ র‍্যাবের প্রায় সবকিছু নিয়ে আজ বুধবার থেকে নতুন পরিচয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে ইউনিটগুলো। লোগোর নকশাও আগেরটাই আছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে গঠিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে কার্যক্রম শুরু করেছে র‍্যাবের সব ইউনিট। জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদসহ র‍্যাবের বিদ্যমান কাঠামোর বড় অংশ নিয়েই বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইউনিটগুলো।

বুধবার থেকে র‍্যাবের বিভিন্ন ইউনিটের গণমাধ্যম-সংক্রান্ত যোগাযোগের গ্রুপগুলোর নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করা হয়েছে। এসব গ্রুপে অভিযান, গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সংবাদও নতুন নামেই পাঠানো হচ্ছে। র‍্যাবের ফেসবুক পেজগুলোর নামও পরিবর্তন করে এসআরবি করা হয়েছে।

তবে লোগো, পতাকা, মনোগ্রাম ও ইউনিফর্মে পরিবর্তন এখনো কার্যকর হয়নি। এসব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়। নতুন আইনে র‍্যাব বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা, সম্পদ, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়, চুক্তি, হিসাব বই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট দলিল এসআরবিতে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। র‍্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আদালতের কার্যধারাও বহাল থাকবে।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে।

নাগরিকদের অভিযোগ এবং সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য অভিযোগ প্রতিকার কমিটি রাখার বিধান রয়েছে। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

নতুন আইনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের এসআরবিতে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। র‍্যাবের কাঠামোয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ও মানবাধিকারকর্মীদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে কোনো বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করা হলে সেটি প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন আইনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এসআরবিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।