রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় বারবার মানবিক সহায়তার দিকটি প্রাধান্য পেলেও, মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে- রোহিঙ্গারা আদৌ কখন নিজ দেশে ফিরবে? এমনটাই বলেছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (১১ জুন) লন্ডনের প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউস আয়োজিত এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যত আলোচনা হয়, তা আবর্তিত হয় খাবার, শিক্ষা বা ত্রাণ নিয়ে। অথচ কেউ জোর দিয়ে প্রশ্ন তোলে না- তারা কবে মিয়ানমারে ফিরবে? তাদের ভবিষ্যৎ কী?”
তিনি জানান, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে। এর ফলে নতুন করে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আগে থেকেই অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে মিলিয়ে সংকটকে আরও গভীরতর করছে।

ড. ইউনূস বলেন, “যখন তারা ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আসে, তখন অনেক শিশু ছিল মাত্র কয়েক মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী। আজ তারা ১২ বছরের কিশোর। তারা বন্দিজীবনের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে, কোনো আশার আলো নেই। প্রতি বছর গড়ে ৩৫ হাজারের মতো শিশু জন্ম নিচ্ছে ক্যাম্পে। একটি 'হারানো প্রজন্ম' গড়ে উঠছে, যারা জানেই না তাদের কী ভবিষ্যৎ।”
এই প্রেক্ষাপটে ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো- তাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন। বাংলাদেশে তাদের স্থায়ীভাবে রাখা যাবে না। স্থানীয় জনগণ ইতোমধ্যে বিরূপ মনোভাব দেখাতে শুরু করেছে। কারণ, রোহিঙ্গারা সবকিছু বিনামূল্যে পাচ্ছে, আর স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বাঁচছে।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় শিশুরা যেখানে পরিশ্রম করছে, সেখানে রোহিঙ্গা শিশুরা খেলাধুলা করছে, বিনা খরচে সব পাচ্ছে। এতে সমাজে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।”
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে দাতা দেশগুলোর বিশেষ বৈঠক ডাকার কথাও জানান ইউনূস। তিনি বলেন, “আমরা চাই রোহিঙ্গারা নিজের দেশে ফিরে গিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ পাক। তা না হলে এই সংকট এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সমস্যায় রূপ নেবে।”
ড. ইউনূসের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের দাবি তুলেছে, যেখানে ত্রাণ নয়- প্রত্যাবাসনের রূপরেখা হতে হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়।
-পার্বত্য সময়


