মিয়ানমারে চলমান সংঘাতকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এ সংকট শুধু অঞ্চলের শান্তি ঝুঁকির মুখে ফেলছে না, বরং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথকেও আরও জটিল করে তুলছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার পর) দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আট বছর পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গা সংকটের কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। উল্টো বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত নতুন রোহিঙ্গা আশ্রয় দিতে হচ্ছে। "সাংস্কৃতিক পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির কারণে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও অধিকার বঞ্চনা অব্যাহত রয়েছে," উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, "রোহিঙ্গাদের প্রান্তিকীকরণের প্রক্রিয়া এখনই থামাতে হবে। বৈষম্যমূলক নীতি ও কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দ্রুত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। রাখাইনের সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান অবশ্যই প্রয়োজন, যেখানে সকল জাতিসত্ত্বার অংশগ্রহণে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও সমঅধিকারের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।"
বাংলাদেশকেও এ সংকটের দ্বিতীয় ভুক্তভোগী উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, "এটি কোনোভাবেই দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নয়। আমরা মানবিক দায়িত্ব থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছি। কিন্তু তহবিল সংকটে এখন ক্যাম্পের ন্যূনতম জীবনমানও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।"
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ইতোমধ্যেই তহবিল ঘাটতির কথা জানিয়েছে। নতুন অর্থায়ন না এলে মাসিক রেশন মাথাপিছু মাত্র ৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসতে পারে, যা রোহিঙ্গাদের অনাহার ও অপুষ্টির দিকে ঠেলে দেবে। "আরও কাটছাঁট হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে," যোগ করেন তিনি।
ড. ইউনূস বিদ্যমান দাতাদের সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন দাতাদের অনুদান প্রদানের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, "মানবিক সহায়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মিয়ানমার সরকার বা রাখাইনের অন্যান্য পক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে হবে, যাতে দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান বের হয়।"
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী দৃঢ় প্রতিশ্রুতি তৈরি করবে এবং বাস্তবসম্মত সহায়তা নিশ্চিত করবে। একইসঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক রোডম্যাপের মাধ্যমে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
-পার্বত্য সময়


