রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ সংকটের সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকার দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সব পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও চাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর, ইউএন উইমেন ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। মানবিক সহায়তা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংকটের সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং তথ্য যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের বিষয়েও কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয়। এর অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করছে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ভূমিকার ওপর।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানবিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি ও টাস্কফোর্স তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।