যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির তহবিল স্থগিত হওয়ায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ইতোমধ্যে তিনটি হাসপাতাল ও ১৪টি সিডিডি সেন্টার বন্ধ হয়ে গেছে, যার কারণে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধরা চরম সংকটে পড়েছেন।
রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ
শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা মো. হাসান, যিনি মিয়ানমারের সেনা অভিযানে এক পা হারিয়েছেন, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিতেন। তবে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চিকিৎসাবঞ্চিত। একই অবস্থা কবির আহমেদের মতো অনেকের, যাঁদের পক্ষাঘাতগ্রস্ত শিশুরা আগে সিডিডি সেন্টারে সেবা পেতো, কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই।
চিকিৎসাসেবা সংকটে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা স্থগিত হওয়ার পর হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মার্চের মধ্যে আরও দুটি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, রোহিঙ্গাদের সেবা দিতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি)-এর কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
প্রভাব ও সম্ভাব্য সমাধান
স্বাস্থ্যসেবা সংকটের কারণে শুধু রোহিঙ্গারা নয়, স্থানীয় জনগণও চিকিৎসা সেবায় সংকটে পড়ছেন। আইনজীবী ও শরণার্থী সহায়তাকর্মী সৈয়দ মো. তাফহিম জানান, ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন এবং শিক্ষা খাতে সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জাতিসংঘের পপুলেশন ফান্ডের (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাসাকি ওয়াতাবে এক বিবৃতিতে বলেন, রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিতে তহবিল পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে ইউএসএআইডির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়, যার ফলে রোহিঙ্গা শিবিরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য জরুরি সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-পার্বত্য সময়