কক্সবাজারের টেকনাফের স্থানীয় দুই কলেজ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে রোহিঙ্গাদের একটি ডাকাতদল বলে অভিযোগ। এ সময় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। পরে তিন ভরি স্বর্ণ ও সাত লাখ টাকার মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতরা হলেন টেকনাফের হ্নীলা মোচনীর দুদু মিয়ার ছেলে মো. রাসেল ও মো. তারেক।
ভুক্তভোগীদের পিতা দুদু মিয়া বলেন, রাতে যখন বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ করে ২০-৩০ জনের অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা ডাকাতদল বাড়িতে এসে হানা দেয়। পরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও মারধর করে আমার দুই ছেলে রাসেল ও তারেককে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের মুক্ত করতে ৭ লাখ নগদ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণ দিয়ে ফেরত আনা হয়। কিন্তু তাদেরকে ব্যাপক নির্যাতন করে এ ডাকাতদল। রাসেল মইন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও তারেক কক্সবাজার সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
এদিকে এ ঘটনার জের ধরে ক্যাম্পের পাশে থাকা স্থানীয় বাঙালিদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ডাকাতদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে রোহিঙ্গারা কয়েক শতাধিক গুলি বর্ষণ করে। এরপরে সকাল থেকে চার ঘন্টা উখিয়া-টেকনাফের হাইওয়ে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয় জনতা। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোহাম্মদ আলী জানান, একদল রোহিঙ্গা ডাকাত স্থানীয় দুইজন কলেজ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে এবং শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে রোহিঙ্গা ডাকাতরা সকালে আবারো স্থানীয় জনতার উপর দফায় দফায় গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে সড়ক অবরোধ করে দাবি করেন, এসব রোহিঙ্গা ডাকাতদের গ্রেপ্তার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
হ্নীলা মোচনী ক্যাম্পের ইনচার্জ হান্নান সরকার জানান, বর্তমানে ক্যাম্পের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্পে টহলে রয়েছে। অপহরণের ঘটনায় এপিবিএন পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তার কাজ করছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, দুই জন বাঙালি অপহরণের ঘটনার জেরে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ বিষয়ে অবগত হয়েছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

-পার্বত্য সময়