জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন। এই সফরে তিনি বিভিন্ন শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা নেতারা তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফেরার জন্য নিরাপত্তা এবং থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন।
রোহিঙ্গা নেতারা রাখাইন রাজ্যের ৮০ শতাংশ এলাকা দখলকারী আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক উন্নয়ন ও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন। জবাবে ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, যদি বাংলাদেশ সরকার আরাকান আর্মির সঙ্গে সংলাপ করে দুই পক্ষের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করে, তাহলে জাতিসংঘ অবশ্যই সহযোগিতা করবে।
ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। বুধবার রাতে তিনি রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে যান। এই শিবিরে ৭২ হাজার রোহিঙ্গার বসবাস।
বালুখালী আশ্রয়শিবিরে ইউএনএইচসিআর পরিচালিত নিবন্ধন সেন্টারের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। তারপর বালুখালী ক্যাম্প-৮ আশ্রয়শিবিরে গিয়ে পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে ওঠে ক্যাম্প পরিস্থিতি দেখেন। দুপুরে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের একটি সেন্টারে বিভিন্ন বয়সী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ, মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় নেতা, সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ, কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা দল ও রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
বৈঠকে আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তা, ত্রাণতৎপরতা, সমস্যা, বর্তমান রাখাইন পরিস্থিতি ও প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা বলেন। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩ আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৮ লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। এ পর্যন্ত একজনকেও প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়নি।
বেলা দেড়টার দিকে মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করে কক্সবাজার শহরের দিকে রওনা দেন ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। এ সময় সঙ্গে ছিলেন ইউএনএইচসিআরের রিজওনাল ব্যুরো অব এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিকের পরিচালক হ্যাই ক্যুন জুন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
বিকেলে কক্সবাজার শহরে ফিরে এসে আরআরআরসি কার্যালয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। রাতে তিনি ঢাকায় ফিরে যান।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বার্থে প্রত্যাবাসন নিয়ে ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পৃথক তিনটি বৈঠকে তিনি প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা বলেছেন এবং সমস্যার কথা শুনেছেন। রোহিঙ্গারা তাকে জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে পালিয়ে এসেছেন। এখন আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে।
-পার্বত্য সময়


