জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নেবেন জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, শরণার্থী সংস্থা এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা ইস্যুতে সভায় বক্তব্য রাখবেন। তার বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আহ্বান জানানো হবে।

অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সভার মূল উদ্দেশ্য হলো— রাজনৈতিক সহযোগিতা একত্রিত করা, রোহিঙ্গা সংকটের দিকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ফেরানো, সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করা এবং একটি টেকসই, দীর্ঘমেয়াদি ও উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করা। এছাড়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক পরিবেশ গঠনও আলোচনার প্রধান বিষয়।

সভাটি তিন ভাগে অনুষ্ঠিত হবে—উদ্বোধনী পর্ব, আলোচনা এবং সমাপনী পর্ব। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমার-বিষয়ক বিশেষ দূত, শরণার্থী ও মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং অন্যান্য অংশীজন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস কক্সবাজারে রোহিঙ্গা বিষয়ক সম্মেলনে তুলে ধরা সাতটি প্রস্তাব পুনরায় বিশ্ব নেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। আশা করা হচ্ছে, এই সভা থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের কার্যকর ও সময়নিষ্ঠ পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক, মহাসচিবের পক্ষে চিফ দ্য ক্যাবিনেট আর্ল কোর্টেন, মিয়ানমার-বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, রিফিউজি ও মানবাধিকার সংস্থার নেতৃবৃন্দ এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের উদ্যোগে গত আগস্টে কক্সবাজারে আয়োজিত প্রথম সংলাপে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই সংলাপের ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নেতৃত্বে এবার এই উচ্চ পর্যায়ের সভার আয়োজন করা হলো।