রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কেবল মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, সংকট সমাধানে কূটনীতির বিকল্প নেই, তবে বাস্তবতা মেনে চলতে হবে—শুধু দুই দেশের আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি আসবে না।
সোমবার (৫ মে) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কৌশলগত প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পথ’ শীর্ষক সেমিনারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “প্রথম থেকেই আমরা সতর্ক করেছিলাম যে, শুধু দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। এটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল এক সংকট, যার রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। কূটনীতি চালিয়ে যেতে হবে, তবে শুধু মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা যথেষ্ট নয়।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক হতে হবে, এবং পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা ছাড়া তা সম্ভব নয়। “রোহিঙ্গারা এমন জায়গায় ফিরবে না, যেখানে তাদের অধিকার অস্বীকার করা হয় বা জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে,”—বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রশ্ন রাখেন, “আমরা কি তাদের আবার সেই নির্যাতনের জায়গায় ফেরত পাঠাবো? আমরা কোনো অযৌক্তিক প্রত্যাশা করছি না—তবে এমন জায়গায় কাউকে ফেরত পাঠানো নৈতিকভাবেও সঠিক নয়।”
তিনি বলেন, মিয়ানমারে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে, যা রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “এটি একটি কঠিন ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এর জন্য আন্তর্জাতিক ঐক্য প্রয়োজন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য একটি পরিকল্পিত রোডম্যাপ থাকা দরকার।”
তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় বাধা। নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা না থাকলে এই মুহূর্তে তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।
মিয়ানমারের মূল রাজনৈতিক অংশীদারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই সংকটের টেকসই সমাধানে অবশ্যই সামরিক জান্তা, ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) এবং আরাকান আর্মিকে আলোচনায় আনতে হবে। বিশেষ করে আরাকান আর্মি এখন রাখাইন অঞ্চলের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা উপেক্ষা করা বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সামিল।”
-পার্বত্য সময়


