বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগে ১নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিনসহ তিন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানোর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন সনদ, ‘স্থানীয় বাসিন্দা’ সনদ এবং ‘রোহিঙ্গা নয়’—মর্মে প্রত্যয়নপত্র সরবরাহ করে ভোটার করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছিল। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নাছির উদ্দিন এবং ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাকের হোসেন ও ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন।
সরজমিনে তদন্তে উঠে আসে, ভোটার আবেদনকারী হিসেবে থাকা মো. ইব্রাহিমের জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতা হিসেবে যিনি উল্লিখিত, তিনি আসলে তার শ্বশুর। আবার রোহিঙ্গা আবুল কাশেমকে ‘বাংলাদেশি’ প্রমাণ করতে তার মাতা হিসেবে ফাতেমা খাতুনের নাম দিয়ে জন্মনিবন্ধন করে দেন ইউপি সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, বিনিময়ে আদায় করেন ২০ হাজার টাকা। এই টাকার একটি অংশ নাকি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিনও ভাগ নেন।
অন্যদিকে, ৫নং ওয়ার্ডের ভোটার আবেদনকারী জান্নাতুল মুন্নীর পিতার নাম ছালেহ আহম্মেদ হলেও যিনি প্রকৃত ভোটার হিসেবে পরিচয়পত্র পেয়েছেন, তিনি মৃত। অথচ প্রকৃত জান্নাতুল মুন্নীর পিতা জীবিত ছালেহ আহম্মেদ, যার পিতার নাম ইয়াকুব আলী; অথচ ভোটার তালিকায় দেখানো হয়েছে মৃত কাশেম আলী।
৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধেও নাজমা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারীকে ভোটার বানানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ও ইউপি সদস্য আব্দুল মতিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল আল মুমিন।
রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানোর অভিযোগে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রবুজ বড়ুয়া। চলতি মাসের ৬ তারিখে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল আল মুমিন বলেন, “যাদের রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের ভোটার বাতিল করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান। কেউ আইন লঙ্ঘন করে থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বলেন, “আমি কোনো রোহিঙ্গাকে ভোটার করতে সহযোগিতা করিনি। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।”
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাহিদ শাহরিয়ার বলেন, “আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ আনেনি। লিখিত অভিযোগ এলে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে, এবং কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
সূত্র: মানবজমিন
রোহিঙ্গাদের ভোটার বানাচ্ছে প্রতাপশালী আ. লীগ নেতা ও চেয়ারম্যানের সিন্ডিকেট
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল আল মুমিন বলেন, “যাদের রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের ভোটার বাতিল করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান। কেউ আইন লঙ্ঘন করে থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সি
স্টাফ রিপোর্টার
১৯ মে, ২০২৫ ৫:০৬ পূর্বাহ্ন২ মিনিট পড়া

ছবি : সংগৃহীত

