বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের আট বছরেও নিজ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। উল্টো রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় ফের অনুপ্রবেশের চাপ বাড়ছে সীমান্তে। এমন পরিস্থিতিতেই কক্সবাজারে আজ রোববার (২৪ আগস্ট) শুরু হলো তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যেখানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তা জোরদারের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়রা জানান, সংঘাতের কারণে সীমান্ত ঘেঁষা চিংড়ি প্রজেক্টের শ্রমিকরা নিরাপত্তার খোঁজে পালিয়ে এসেছে।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ৬২ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তবে সীমান্তের ওপারে এখনও হাজারো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, “আমরা কাউকে ঢুকতে দিচ্ছি না। দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।”

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আজ প্রায় আট বছর পরও তাদের দেশে ফেরার কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। এখন রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে না থেকে আরাকান আর্মির দখলে, যারা জোরপূর্বক শিশুদের যুদ্ধে টেনে নিচ্ছে এবং পরিবারগুলোর কাছ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা জানাচ্ছেন, রাখাইনে ফেরার মতো পরিবেশ নেই।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর তথ্যমতে, শুধু ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেড় লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাস করছে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা। কিন্তু বৈশ্বিক নানা ঘটনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসছে, ফলে সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আলোচনার জন্য প্রাপ্ত বার্তা’ শীর্ষক সম্মেলন আজ থেকে কক্সবাজারের ইনানীতে শুরু হয়েছে। এতে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, ৪০ দেশের প্রতিনিধি, একাধিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও কূটনীতিকরা। তারা রোহিঙ্গাদের বক্তব্য সরাসরি শুনবেন এবং প্রত্যাবাসন ও সহায়তা তহবিল বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ করবেন।
কক্সবাজার ও নিউইয়র্কের পর ডিসেম্বর মাসে কাতারের দোহায় হবে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন। এখানকার আলোচনার ভিত্তিতেই নিউইয়র্কে একটি অবস্থানপত্র প্রণয়ন হবে, যা পরবর্তীতে দোহায় গৃহীত হতে পারে।
-পার্বত্য সময়


