২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা তরুণ নূর মোস্তফাকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
বুধবার (২ জুলাই) বিকেলে সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়, যা পরে প্রেস সচিব শফিকুল আলম শেয়ার করেন।
পোস্টে বলা হয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শহীদ নূর মোস্তফার স্বীকৃতির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বর্তমানে গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ করছে এবং শিগগিরই একটি প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল থেকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার সামনে বৈষম্য ও সামরিক দমননীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদের আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নেন ১৭ বছর বয়সী নূর মোস্তফা। দুপুরের দিকে পুলিশ গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরদিন ৬ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, নূর মোস্তফার বাবা শফিউল আলম ১৯৯২ সালে মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন এবং ঈদগাঁও এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বাংলাদেশেই জন্মগ্রহণ করা নূর মোস্তফা ছিলেন ঈদগাঁও দারুস সালাম দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র।
তার মৃত্যুর পর বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দল রোহিঙ্গা পটভূমি থাকা সত্ত্বেও নূর মোস্তফার আত্মত্যাগকে জাতীয় আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়।
নূর মোস্তফাকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি জীবনকে মূল্যায়ন নয়, বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এক ধরনের নৈতিক অবস্থানও, যেখানে জন্মপরিচয় নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, শিগগিরই সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারির পর নূর মোস্তফার নামে স্মারক ফলক ও শিক্ষাবৃত্তির মতো উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে।
-পার্বত্য সময়


