নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় রোহিঙ্গাদের ভুয়া জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে ভোটার করার সক্রিয় চক্রের সন্ধান মিলেছে। উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ ও কম্পিউটার দোকানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই জালিয়াত চক্র, যারা প্রতিটি ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের জন্য ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।
গত ৩ জুন বিকালে উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার হতে এসে আটক হয় নুরুল আমিন নামের এক রোহিঙ্গা যুবক। তার সঙ্গে আটক হয় দুই স্থানীয় দালাল। নুরুল আমিনকে স্থানীয় বাসিন্দা সাজাতে দালালরা ভুয়া স্বজন বানিয়ে নিয়ে আসে। তবে কাগজপত্র ও স্বাক্ষরে অসঙ্গতি ধরা পড়লে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা বাদী হয়ে রোহিঙ্গা যুবকসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কয়েকজন দালালকে আসামি করে মামলা করেন।
২৯ জুন আরও একটি ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন আক্তারের স্বাক্ষর জাল করে জন্ম নিবন্ধন তৈরি হয়। ভুয়া সনদ ব্যবহার করে ভোটার হওয়ার আবেদন করতে গিয়ে ধরা পড়ে চার যুবক। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, স্থানীয় দালাল সাইমন ও আজাদকে প্রতিটি সনদের জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বাজারের কম্পিউটার দোকান এই ভুয়া জন্ম নিবন্ধন বানানোর মূল কেন্দ্র। টাকা দিলেই যেকোনো জেলা বা ইউনিয়নের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে অনলাইন সনদ তৈরি করে দিচ্ছে তারা। এতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, কর্মচারী এবং কিছু উদ্যোক্তাও সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, বজরা ইউনিয়নের উদ্যোক্তা আব্দুল মতিন ও সোনাইমুড়ী বাজারের শাপলা কম্পিউটারের মালিকসহ অনেকে এ কাজে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। তারা মোটা অংকের বিনিময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বা অন্য জেলার ভুয়া জন্ম নিবন্ধনও করে দিচ্ছে।
সোনাইমুড়ী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজগর হোসেন স্বীকার করেন যে কম্পিউটার দোকানগুলোতে নাম-ঠিকানা এডিট করে অহরহ ভুয়া সনদ বানানো হচ্ছে। তবে তিনি সরাসরি দায় অস্বীকার করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, “আমার স্বাক্ষর জাল করে জন্ম নিবন্ধন তৈরির ঘটনা ধরা পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী বাজারের কম্পিউটার দোকানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
-সূত্র- জনকণ্ঠ


