সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিতে আগ্রহী নয়। বড় একটি অংশ পাসপোর্ট নিতে কনস্যুলেটে হাজির হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা, আর্থিক চাপের ভয় এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎই এই অনীহার মূল কারণ।

সৌদি সরকার দীর্ঘদিন ধরেই দেশটিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বৈধতার আওতায় আনতে বাংলাদেশকে পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকারও অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠকেও পাসপোর্ট হস্তান্তরের ধীরগতির বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকার জানিয়েছে, সৌদিস্থ বাংলাদেশ মিশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর পূর্ণোদ্যমে কাজ করছে, তবু আবেদনকারীদের উপস্থিতি কম।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, অনেক রোহিঙ্গার আশঙ্কা- বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিলে তাদের ওপর উচ্চহারে অবস্থান বা আয়ের ফি আরোপ করা হতে পারে। আলোচনায় রয়েছে, মাসিক ৬০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত ফি নেওয়ার বিষয়টি। পাশাপাশি পাসপোর্ট পেলে ভবিষ্যতে ডিপোর্ট করা সহজ হবে- এই ভয়ও অনেকে কনস্যুলেটে যেতে নিরুৎসাহিত করছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬২ হাজার ২৪০ জনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেও হাজির হয়েছেন ৩৮ হাজার ২৩৮ জন। অনুপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩৭ শতাংশ আবেদনকারী। এ পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি পাসপোর্ট হস্তান্তর করা হয়েছে। অনুপস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু একটি সংবেদনশীল কূটনৈতিক ও মানবিক বিষয়। দ্রুততার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, মানবাধিকার এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষার দিকেও সমান গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত বড় নীতিগত সংকটে রূপ নিতে পারে।