গত ১১ মাসে মিয়ানমার থেকে নতুন করে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪০ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর -এর সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, কেবল সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫১ জন। অক্টোবরে এসে নতুনভাবে আরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছেন।
বুধবার (১২ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরসহ বাংলাদেশে মোট ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিবন্ধিত আছেন। এর মধ্যে নতুন আগতদের একটি বড় অংশ ২০২৪ সালের শুরু থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাখাইনে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা, গ্রাম ধ্বংস এবং সামরিক দমনপীড়নের ঘটনায় হাজারো রোহিঙ্গা নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অক্টোবরের শেষ নাগাদ নতুন আগতদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্নের কাজও চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শরণার্থী জনসংখ্যার মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী ও ৪৮ শতাংশ পুরুষ। ৭৮ শতাংশ নারী ও শিশু, এবং প্রায় ১২ শতাংশ শরণার্থী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, একক অভিভাবকত্ব, গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি বা বয়সজনিত দুর্বলতায় ভুগছেন- যাদের অতিরিক্ত আইনি ও সুরক্ষা সহায়তা প্রয়োজন।
রাখাইন রাজ্যে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ আরও একটি নতুন ঢেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল ইউএনএইচসিআর।


