সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার তো দূরের কথা, মামলার নথিও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়নি। ডিবির হেফাজতে থাকা মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আগুনে পুড়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) হাইকোর্টে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে মামলার তদন্তে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স আরও ৬ মাস সময় চেয়ে আবেদন করে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেছেন।
হাইকোর্টে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরসাদুর রউফ বলেন, “তদন্ত এগোচ্ছে, তবে আগুনে কিছু নথি পুড়ে যাওয়ায় সময় লাগছে। আমরা আরও সময় চাই।” আদালত ৯ মাস চাওয়া হলেও ৬ মাস সময় দেন এবং আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।
এর আগে, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের ব্যর্থতা ও তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট র‌্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি উচ্চ পর্যায়ের চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়। এতে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়।
টাস্কফোর্সের বাকি সদস্যরা হলেন- পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, সিআইডি থেকে একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, র‌্যাবের একজন পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
তবে আদালতের দেওয়া ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি, কারণ ওই সময় উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি চলছিল।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে তাদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি সে সময় দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বিচারের আশ্বাস দিলেও গত এক যুগে তদন্তই শেষ হয়নি। ৮০ বারেরও বেশি সময় নিয়ে তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
নতুন করে নথিপত্র পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সাংবাদিক সমাজ, সুশীল মহল ও নিহতদের পরিবার বারবার অভিযোগ করে আসছে—এই মামলায় প্রকৃত কোনো অগ্রগতি নেই, বরং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তদন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত হচ্ছে।

-পার্বত্য সময়