বাংলাদেশে আশ্রিত স্কুলবয়সী রোহিঙ্গা মেয়েদের মাত্র ৩ শতাংশ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস ফর অল-এর ‘বার্মা টাস্ক ফোর্স’। সংগঠনটির নতুন এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের ৫২ শতাংশই মেয়ে। কিন্তু তাদের বিপুল সংখ্যকই শিক্ষার বাইরে রয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফল তুলে ধরেন জাস্টিস ফর অলের প্রেসিডেন্ট ও বার্মা টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান আবদুল মালিক মুজাহিদ। এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য একটি সুসংহত, স্বীকৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কাঠামো দ্রুত প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মানবিকতা বিশ্বে নজিরবিহীন। এখন প্রয়োজন টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।

তিনি জানান, প্রতিনিধি দলটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তিন দফা সুপারিশ দিয়েছে- রোহিঙ্গা শিক্ষার জন্য জাতীয় নীতিমালা গ্রহণ, স্বীকৃত সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু এবং  মুসলিম দাতব্য সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি, যাতে বিপুল সহায়তা কাজে লাগানো যায়

সংগঠনটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান শিক্ষা খাতে কাজে লাগাতে চায় তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিসেফ ও সেভ দ্য চিলড্রেন সম্প্রতি বাজেট সংকটে ক্যাম্পের প্রায় ৬,৪০০টি শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধের কথা জানিয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত করবে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা শিশুকে। ইতোমধ্যে ২,৭৮৯টি কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় ১ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি শিশু শিক্ষাবঞ্চিত হয়েছে। চাকরি হারিয়েছেন ৪,৯১৪ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক।

জরিপটি ২০২৪ সালের নভেম্বর–ডিসেম্বরে কুতুপালংসহ বিভিন্ন শিবিরে ১,০০০ রোহিঙ্গা নারী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্কুল পরিদর্শনের ভিত্তিতে করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের সাবেক চেয়ারম্যান নাদিন মানজা বলেন, রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি নিরাপত্তা বিনিয়োগ। শিক্ষাহীন প্রজন্ম নির্ভরতা ও অস্থিরতা বাড়াবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মুখপাত্র রিচার্ড রিওচ বলেন, গণহত্যার শিকার তরুণদের জন্য শিক্ষা জীবনরক্ষাকারী পথ। এটি তাদের মানসিক পুনর্গঠন ও নতুন জীবনের পাসপোর্ট।