বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। এই চাল বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মাধ্যমে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতরণ করা হবে।

সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও পল্লী বিষয়ক মন্ত্রণালয় (এমএএফআরএ) গত ১ অক্টোবর গুনসান বন্দরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চালবাহী জাহাজের বন্দর ত্যাগের ঘোষণা দেয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কাউন্সেলর তারাজুল ইসলাম, দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও পল্লী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর মহাপরিচালক, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপ-আঞ্চলিক পরিচালক এবং স্থানীয় সরকার কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর তারাজুল ইসলাম বলেন, “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এমন এক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই সংকটের প্রতি মনোযোগ ও সহায়তা দুটোই দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃতজ্ঞ দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের প্রতি, যারা মানবিক বিবেচনায় সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা করি কোরিয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে ভবিষ্যতেও ভূমিকা রাখবে।”

কক্সবাজার ও ভাসানচরে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের সময় পালিয়ে এসেছিল। আন্তর্জাতিক সহায়তা ক্রমে কমে যাওয়ায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউএফপি গত এক বছরে তহবিল ঘাটতির কারণে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা তিন দফা কমাতে বাধ্য হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সহায়তা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্যসংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে জাতিসংঘ।