বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার নতুন পর্ব শুরু করেছেন ইউপিডিএফ (প্রসীত) ঘনিষ্ঠ বিতর্কিত এক্টিভিস্ট সুহাস চাকমা। সম্প্রতি ভারত সফররত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে জমা দেওয়া এক “স্মারকলিপিতে” তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌম অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামকে জাতিসংঘ সনদের অধ্যায় ১১ অনুযায়ী “অ-স্বশাসিত অঞ্চল” ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।
‘গ্লোবাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্ডিজেনাস পিপলস অব দ্য সিএইচটি (GAIPCHT) নামে একটি কথিত সংগঠনের আহ্বায়ক পরিচয়ে সুহাস চাকমা দাবি করেন— পার্বত্য চট্টগ্রাম “দখলীকৃত অঞ্চল” এবং বাংলাদেশ সরকার “নিজ দেশের বাঙালি জনগণকে সেখানে স্থানান্তর করছে।” এই বক্তব্য শুধু অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নষ্টের একটি পরিকল্পিত প্রচারণা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষক বেল্লাল আহমেদ বলেন, অ-স্বশাসিত অঞ্চল (non-self-governing territory) হলো এমন একটি ভূখণ্ড যেখানে এর অধিবাসীরা এখনও পূর্ণ স্ব-শাসনের অধিকার অর্জন করতে পারেনি। এই অঞ্চলগুলোর জনগণ এখনও কোনো সাম্রাজ্যিক, ঔপনিবেশিক সরকারের দ্বারা শাসিত হয়, যা তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সীমিত করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ঐতিহাসিকভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভূখণ্ড। কিভাবে বাংলাদেশ সরকার ঔপনিবেশিক হয়?
তিনি মনে করেন, স্মারকলিপিতে সুহাস চাকমা জেনেভা কনভেনশনের ৪৯ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বাংলাদেশকে “দখলদার রাষ্ট্র” আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম কখনোই আন্তর্জাতিকভাবে “অধিকৃত ভূখণ্ড” হিসেবে স্বীকৃত নয়; বরং এটি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
দিল্লিতে অবস্থানরত সুহাস চাকমা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি নিজেকে “মানবাধিকারকর্মী” হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তবে তিনি ইউপিডিএফের (প্রসীত) পক্ষের একজন সক্রিয় মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। অনলাইনে ইউপিডিএফের রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করে তিনি বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, বিকৃত ইতিহাস প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
একাধিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করছেন, সুহাস চাকমার এই কর্মকাণ্ড ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ষড়যন্ত্রের অংশ। লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি “আন্তর্জাতিক ইস্যু” হিসেবে তুলে ধরে বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সুহাস চাকমার নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি বিদেশী কয়েকটি এনজিও ও থিংক ট্যাংকের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা পাচ্ছে, যেগুলো দক্ষিণ এশিয়ার জাতিগত রাজনীতিকে কেন্দ্র করে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ বাস্তবায়ন করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পোস্ট ও সাক্ষাৎকারগুলোতে দেখা যায়— তিনি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ সরকার, প্রশাসন এবং বিশেষ করে সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করছেন।
এই স্মারকলিপিকে ইউপিডিএফের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে বেল্লাল আহমেদ বলছেন, বিদেশে অবস্থানরত এমন ব্যক্তিদের রাজনৈতিক আশ্রয় ও আর্থিক উৎসগুলো পর্যবেক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। সুহাস চাকমার মতো প্রবাসী প্রোপাগান্ডাবিদদের কর্মকাণ্ড শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই নয়, বরং বাংলাদেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার জন্যও একটি নতুন প্রজন্মের হাইব্রিড হুমকি তৈরি করছে।


