রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান দিয়েছে সুইডেন সরকার। পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে পরিচালিত এসএএফই প্লাস টু যৌথ কর্মসূচির আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
ইউএনএইচসিআর জানায়, এসএএফই প্লাস টু কর্মসূচিতে যুক্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসারে সুইডেন সরকারের এই অনুদানকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এই অর্থ সহায়তা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য এলপিজি গ্যাসসহ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, মানবিক প্রয়োজন বাড়লেও বৈশ্বিক অর্থায়ন কমে আসছে- এমন এক সময়ে সুইডেনের এই উদার সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বেঁচে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রায়ই তাকে জানায়, তাদের দৈনন্দিন জীবনে এলপিজি কতটা গুরুত্বপূর্ণ- বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য, যাদের আর জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেতে হয় না।
ইভো ফ্রেইসেন আরও বলেন, এই অনুদান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে টিকে থাকতে ও সুরক্ষিত থাকতে সহায়তা করছে, যতদিন না মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স বলেন, বৈশ্বিক মানবিক তহবিল ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং গত কয়েক বছরে অর্জিত সাফল্য ধরে রেখে জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এই অনুদান শরণার্থীদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে রান্না চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে, যা একদিকে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, অন্যদিকে বন সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স আরও বলেন, যতদিন না রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারছে, ততদিন সুইডেন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা বাংলাদেশি জনগণের পাশে সংহতি প্রকাশ করে যাবে। মানবিক মর্যাদা রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সুইডেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য। বিশেষ করে সুইডেনের মতো দেশগুলোর ধারাবাহিক সমর্থন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তা ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


