সমতল ও পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীকে একত্র করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সেই চট্টগ্রাম যেখানে পাহাড় এবং সমতলের মানুষ একসাথে বসবাস করেন। আন্দোলনের সময় আমরা দেখিনি কে পাহাড়ের মানুষ, কে সমতলের মানুষ। একাত্তরে যুদ্ধের সময় আমরা দেখিনি কে পাহাড়ের মানুষ, কে সমতলের মানুষ। সমতল এবং পাহাড়ের মানুষ সকলকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।

মহাসমাবেশে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তিনি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এসব এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাবেশে অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, পাহাড়ের মানুষ হোক, সমতলের মানুষ হোক, ইসলাম ধর্মের মানুষ হোক, অন্য ধর্মের মানুষ হোক, আমরা সকলকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারে বিশ্বাসীরা যেন ধানের শীষ ও বিএনপির ওপর আস্থা রাখেন।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, দেশের সৌন্দর্য ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্রপন্থী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিগত ১৫ বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, একই ধরনের ষড়যন্ত্র আবারও শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রামবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটের দিন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবার তাহাজ্জুদে উঠতে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন এবং ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করবেন। তারপর যখনই ভোট শুরু হবে, লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যাবেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেওয়া উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

চট্টগ্রামের সঙ্গে তার পরিবারের আবেগঘন সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি- যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন… এই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমির সাথে আমি এবং আমার পরিবারের একটি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগ অতীতে নেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণ করা যায়নি। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তৃতি ঘটানো হবে।

জননিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো মূল্যে আগামী বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা দুর্নীতির মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাধা দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।