প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত করেছেন। আজ সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯ টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় উভয়ে একান্ত এ বৈঠকে করেন।

একান্ত বৈঠকে বসার আগে, প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

একান্ত বৈঠকে বসার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন
একান্ত বৈঠকে বসার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। ছবি: পিএমও

বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি ও শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এদিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মালয়েশিয়ার সুসম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমবাজারসহ ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি, আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য। আমি অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের পুনরায় নিয়োগের বিষয়গুলোও উত্থাপন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একমত যে নিয়োগ স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের হওয়া উচিত, কর্মীদের জন্য মধ্যবর্তী এবং কম খরচ  হওয়া উচিত।’

এ সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই  প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহায়তার জন্য মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।’

বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হতে চায়। আঞ্চলিক সুসংহত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগ দিতে আগ্রহী আমরা। আমি তার আঞ্চলিক সংহতকরণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করি।’

তিনি আরও বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয়েও মতবিনিময় করেছি। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেয়ায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ভবিষ্যতেও আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যে দ্বিপাক্ষিক দলিলগুলো স্বাক্ষর ও বিনিময় হয়েছে, আমি তা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতিশীলতা বজায় রাখবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলন শেষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মধ্যহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীরা। মধ্যহ্নভোজে মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত শিল্পীরা মালয় এবং বাংলা ভাষায় গানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশ করবেন।