বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র টেকনাফ স্থলবন্দর প্রায় ১০ মাস ধরে বন্ধ থাকায় বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার। গত অর্থবছরে এই বন্দর থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বাংলাদেশ।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং হাজারো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-কে পাঠানো চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের এক চিঠিতে জানানো হয়, বন্দরটি বন্ধ থাকায় একদিকে রাজস্ব আয় কমছে, অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান বেড়ে যাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে প্রায় ৬৪০ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে মাত্র ১৩০ কোটিতে।

বন্দর সচল করতে চিঠিতে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, আইনশৃঙ্খলা জোরদার, মাদক প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও বাণিজ্য চালুর উদ্যোগ না নিলে ক্ষতি আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত বন্দরটি চালু করা গেলে রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি সীমান্ত বাণিজ্যও স্বাভাবিক হবে।